সরকারের কাছে সমাবেশে একবেলা খাবারের জন্য অনুদান চাওয়ায়, যে ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এ নিয়ে আমাদের সুহৃদদের মধ্যে যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা থেকে আমরা আমাদের বক্তব্য সংক্ষেপে তুলে ধরছি।
১) আমরা বর্তমান সরকার এবং অতীতের গণবিরোধী সরকারগুলোকে এক কাতারের মনে করি না। আমরা বিশ্বাস করি বর্তমান সরকার ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সরকার এবং সে অর্থে এটা এদেশের কৃষক শ্রমিক তথা সাধারণ জনগণের সরকার। এ সরকারের কৃষকদের প্রতি গভীর দায়িত্ব আছে।
২) আমরা এই কৃষক সমাবেশ কোন দলীয় অবস্থান থেকে আয়োজন করি নাই। আয়োজকদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের লোকজন সম্পৃক্ত থাকলেও এটা কোন দলীয় অনুষ্ঠান নয়। এ আয়োজনে সরকার, সরকারের সাথে সম্পর্কিত এবং সরকারের সমালোচনারত এমন সকল শক্তি যারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে দেশের কৃষি এবং কৃষকের স্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ, তাদেরকে দল মত নির্বিশেষে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
৩) এ আয়োজন প্রধানত এবং এখন পর্যন্ত সম্পুর্নত আয়োজক, সংগঠক এবং জনগনের চাঁদার টাকায় পরিচালিত হচ্ছে। আমরা জনগণের নিজস্ব শক্তির উপর নির্ভর করেই সকল ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম করে অভ্যস্ত এবং অঙ্গীকারাবদধ।
৪) এ আয়োজনে সরকারের মধ্যে অবস্থানরত প্রশাসনের কিছু মানুষ যারা কৃষকদের প্রতি দৃশ্যত সহানুভূতিশীল তাদের অনুপ্রেরণায় উপস্থিতদের একবেলা খাবারের দায়িত্ব নেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি। এ আবেদন সরকার গ্রহণ করবে কি করবে না, সেটি একান্তই তাদের বিবেচনা।
৫) সরকারের কাছে যত বাজেট চাওয়া হয় তারা আন্তরিক হলেও তার কিয়দংশই তারা পুরণ করে বা করতে পারে। সরকারী এ রেওয়াজকে বিবেচনায় রেখেই এমন একটি বাজেট চাওয়া হয়েছে বলে, আমাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিলো।
৬) আমরা আমাদের সমাবেশ যথারীতি জনগণের সামর্থ্যের উপর ভিত্তি করেই চালায়ে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি আমরা দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত কৃষকদের ন্যায্য দাবি দাওয়ার আওয়াজটুকু ব্রহ্মপুত্রর তীর থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারবো।
আমাদের বরাদ্দ চাওয়ার বিষয়টিকে ব্যাপক সমালোচনার মাধ্যমে রুখে দিতে আপনারা সক্ষম হলেও আমাদের সমবেত আওয়াজকে আপনারা রুখতে সক্ষম হবেন না বলেই মনে করি। কারণ আমরা সারাদেশে আপনাদের মতো নীতিনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের অব্যাহত খাবারের যোগান দিয়ে গেলেও কয়েক বেলা উপোষ থাকার অভ্যাস আমাদের জন্মগতই।
আমরা ২/১ বেলা না খেয়েও সমাবেশে উপস্থিত থেকে সমাবেশ সফল করতে পারবো আশা করি।
৭) আমরা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় গঠিত সরকারী তহবিল থেকে একবেলা খাবারের টাকা চাওয়ায় যাদের মর্যাদাবোধ এবং অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে আমরা তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
৮) আশা করি আপনারা সমাবেশে উপস্থিত হবেন এবং যে সব দাবি দাওয়া উত্থাপনের জন্য এ আয়োজন, সেসব দাবি দাওয়ার মধ্যে যেগুলিকে আপনাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়, সেগুলোর পক্ষে আপনাদের কলম সক্রিয় থাকবে।
বিনীত
আমিনুল ইসলাম বীর
সদস্য সচিব
কৃষক মহাসমাবেশ বাস্তবায়ন গণকমিটি।